যেভাবে আটক হন মসজিদে হামলাকারী ব্রেনটন!

0
616

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো ব্রেনটন ট্যারান্টকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

স্থানীয় সময় শনিবার আটাশ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ার এ নাগরিককে জেলখানার সাদা পোশাক ও হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানেই আদালত তাকে জামিন অযোগ্য পুলিশি হেফাজতে রিমান্ডের আদেশ দেন। ৫ এপ্রিল ট্যারান্টকে আবারও আদালতে হাজিরার তারিখ দেয়া হয়েছে। ততদিন তিনি পুলিশের হেফাজতেই থাকবেন।

বন্দুক হামলায় দু’টি মসজিদের ৪৯ জনকে হত্যা করলেও প্রথমে হামলাকারীর বিরুদ্ধে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ এনে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পর্যায়ক্রমে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হামলার ঘটনায় আরও ৩ জনকে আটক করে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেয়া হলেও বাকি দু’জনের ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালায় বন্দুকধারী। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত হন ৪৯ জন। এছাড়া আহত হন আরো ৪৮ জন। তাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলায় আল নূর মসজিদে ৪১ জন মারা গেলেও লিনউড মসজিদে মারা যান সাতজন। প্রবল সাহস দেখিয়ে হামলাকারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বন্দুক কেড়ে না নিলে সংখ্যাটা কোথায় ঠেকতো বলা মুশকিল।

এদিকে কীভাবে এই হামলাকরীকে আটক করা হয়েছে দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই তথ্য। জানা গেছে, বেলা দেড়টার দিকে দুটি মসজিদের হামলার পর বিশেষ সতর্কতা জারি করে নিউজিল্যান্ড পুলিশ। বার্তাও পাঠানো হয় পুলিশ সদস্যদের কাছে। ওই সতর্ক বার্তার মাত্র ৩৬ মিনিটের মাথায় ব্রেন্টনকে অনেকটা নাটকীয়ভাবে আটক করতে সক্ষম হন স্থানীয় দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

ব্রেন্টনকে আটক করা দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রশসংসা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আডের্ন। তিনি বলেন, যদি সঠিক সময়ে সন্দেহভাজন ব্রেন্টনকে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আটক না করতেন তবে সে হয়তো আরও মানুষকে হত্যা করতো।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওই হামলাকরীর গাড়িতে আরও অস্ত্র দেখা গেছে। তার নিশ্চয়ই আরও হামলার পরিকল্পনা ছিল।

হামলাকারী ব্রেন্টনকে যখন দুই পুলিশ কর্মকর্তা পাকড়াও করছিলেন তখন ব্যস্ততম সেই রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া একটি গাড়ি থেকে কেউ একজন সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।

অনেকটা অস্পষ্ট ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তার এক পাশে থেমে থাকা উজ্বল রঙের একটি গাড়ি। তাকে ধাক্কা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশের একটি গাড়ি। পুলিশের গাড়িটি যে গাড়িটিকে চাপ দিয়ে আছে; সেটির সামনে চাকা শূন্যে উঠে আছে। এর পেছনেই পুলিশের আরও কয়েকটি গাড়ি।

ওই ভিডিওতে আরও দেখা যায়, দুইজন পুলিশ সদস্য একজন ব্যক্তির দিকে তাক করে অস্ত্র উঁচিয়ে আছেন। এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাকে উল্টে দিচ্ছেন পুলিশের একজন সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী আডের্ন বলেন, ওই ব্যক্তিকে ধরতে যে দুই পুলিশ সদস্য কাজ করেছেন তারা স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশের সদস্য। সতর্ক বার্তা দেওয়ার ৩৬ মিনিটের মাথায় তাকে আটক করা হয়।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশও ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রশসংসা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধমে তাদের ভিডিও দেখে পুলিশ সদস্যদের জন্য গর্ব প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রক্তবন্যায় ভাসে শান্তির দেশ নিউজিল্যান্ড। এটাই পশ্চিমা দুনিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ ও বড় হামলা। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে যে মসজিদটিতে, সেখানে নামাজ আদায়ে যাচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ড সফরকারী বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। অল্পের জন্য রক্ষা পান তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here