ফেনীতে করোনা রোগী শনাক্তের ল্যাব স্থাপনের বিকল্প নেই।

0
368

 

মোর্শেদ শিবলী: ফেনীতে ১ দিনেই করোনা পজেটিভ ৩১ জন। বিষয়টা কিন্তু এমন না যে ১৬ মে ৩১ জন পজেটভ। এ,রিপোর্ট টা কিন্তু আরো বেশ কয়দিন আগের। আর ১৬ মে”র রিপোর্ট আসবে আরো কয়েকদিন পর। গত ৪ মে ফেনী থেকে নমুনা
গিয়েছিল ২২ টা আর ১১ তারিখ সেটা গিয়ে ১০০ প্লাস। দিন দিন নমুনা সংগ্রহ ও করোনা রোগী বাড়ছে। ১ দিনে ৩১ জন করোনা রোগী পাওয়ার নেপথ্যে হচেছ, আমাদের রিপোর্ট প্রাপ্তিতে ধীর গতি। আরো কিছু অসংগতি আছে। যারা করোনা টেস্টে দিয়ে বাড়ীতে যান তারা কয়েকদিন গলেই বাড়ীর বাইরে ঘুরাফেরা করছেন।কারন, তারা জানেন না তারা রিপোর্ট কবে পাবেন। তাদের ধারণা তারা ২৪ ঘন্টা পর রিপোর্ট পেয়ে যাবেন। টেলিভিশনে যখন দেখছেন গত ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত এত জন, আর তার কাছে কোন ফোন আসেনি তখন তিনি ধরে নেন আমি যদি পজেটিভ হতাম তাহলেতো আমাকে প্রশাসন ফোন ই করতো। আর ফোন না পাওয়ায় ওনারা সকলে ধরে নিচেছন তাদের রিপোর্ট নেগেটিভ। কারণ হাসপাতালে জানতে চাইলে বলে দেন নেগেটিভ আসলে যোগাযোগ,করা হবে না, পজেটিভ আসলে যোগাযোগ করা হবে। কয়েক দিন পর সবাই ধরে নেয় যেহেতু কোন ফোন আসেনি তাহলে আমার ফলাফল নেগেটিভ ই হবে। আর এমনি ধারণা থেকেই সবার ঘুরে বেড়াচেছন। যখন বেশ কয়দিন পর যার পজেটিভ রিপোর্ট আসলো তত দিনে ওনারা শত কনের কাছে করোনা ভাাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর এ ১ জন থেকে দেখুন কি করে ছড়ায়।যদি প্রতি জন থেকে প্রতিদিন ২ জন করে ছড়াতে থাকে তাহলে পরবর্তী ১৪ স্টেপ বা ১৪ দিনে সেই ১ থেকে কত কন দাঁড়াতে পারে সেই চিত্র দেখুন।
১ থেকে ২
২ থেকে ৪
৪ থেকে ৮
৮ থেকে ১৬
১৬ থেকে ৩২
৩২ থেকে ৬৪
৬৪ থেকে ১২৮
১২৮ থেকে ২৫৬
২৫৬ থেকে ৫১২
৫১২ থেকে ১০২৪
১০২৪ থেকে ২০৪৮
২০৪৮ থেকে ৪০৯৬
৪০৯৬ থেকে ৮১৯২
৮১৯২ থেকে ১৬৩৮৪
এ ভাবে জ্যামেতিক হারে বাড়তে বাড়তে এটা মহামারীতে ছড়ায়। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ গত ৫০ দিনের চিত্র দেখলে কিছুটা কম ছড়ালেও এটা ভয়ংকর রুপ নিতে সময় লাগেনা। সচেতন না হলে এটা এ হিসাব কেও উলট পালট করে দিতে পারে।
সুতরাং যারা সন্দেহ করছেন তারা টেস্ট করার পাশাপাশি রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাই নয় নিজস্ব ব্যবস্হাপনায় আইসোলিউশনে চলে যান। এ কথা টা এ জন্যই বলছি, কোয়ারেন্টাই বলতে আমরা বুঝি ঘরে থাকতে। না, তাহলেও ছাগলনাইয়ার একই পরিবারে ৬ জন আক্রান্ত এ ঘটনার মতো নিউজের শিরোনাম হতে হবে। সুতরাং জীবন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা সবাই। আসুন সন্দেহ হলে টেস্ট করাই। যারা ইতিমধ্যে করোনা পজেটিভ দের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করেছেন তারা কোয়ারেন্টাই এ চলে যান। অসুস্হ বোধ করলে টেস্ট করান আর সাথে সাথে পরিবার থেকে আলাদা হয়ো যান ও পরিবারের সদস্যদের টেস্ট করান। আমরা সচেতন না দিন দিন এটা মহামারীর শেষ সীমানায় চলে যাবে। আর এ মহূ্র্তে ফেনীতে মহামারীর কবল থেকে রক্ষার প্রথম ১ নং হাতিয়ার ল্যাব স্হাপন করে দিনে দিনে টেস্ট রিপোর্ট দিয়ে করোনা রোগী চিহ্নিত করে ওদের মাধ্যামে যেহেতু আর এভাবে ছড়াতে না পারে তা এখানেই আটকে দেয়া।

লেখকঃসম্পাদক আলোকিত বাংলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here