লকডাউন কি বুঝেনা মানুষঃ প্রয়োজন কারফিউ।

0
87

 

মোর্শেদ শিবলী : দেশ জুড়ে চলছে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিধান। অনেক জেলাতেই ঘোষণা হয়েছে লকডাউন। আশ্চার্যের বিষয় হচেছ মানুষ জনকে যদি বলেন, আজ থেকে তো ( ১৮ তারিখ) লকডাউন ঘোষণা হলো, দেখবেন উত্তর আসবে কবে থেকেই তো লকডাউন। ফেনী জেলাকে করোনা রেড জোন হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন লকডাউনের সিদ্বান্ত নেয় ১৭ মে। সেদিন ই ফেনীতে মাইকিং করে পাড়া মহল্লায় ঘোষণা করা হয় যে ১৮ মে থেকে ফেনীকে লকডাউন ঘোষণা করা হলো। কিন্তু আমি অনেক কে বিষয়টি জানালে তারা উত্তর দেয় কবে থেকেই তো ফেনীতে লকডাউন চলছে। আবার যদি কাউকে সামাজিক দূরত্বের কথা বলেন, তারা ভেবে নিচেছ কারো বাড়ী ঘরে কেউ না যাওয়াকেই। সবাই দেখছি বাজারে গিয়ে একজনের পিঠের ফিছনে একজন লেগে আছে। লকডাউন ঘোষণা’র পর দিনও আমরা রাস্তা ঘাটে পাবলিক পরিবহন ও মানুষের অবাধ চলাচল দেখেছি। অন্য দিকে রমজানের শেষ দিক চিন্তা করে ঈদকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়ছে লাখ লাখ মানুষ। ঠেকাবে কে?
পরিবহন নেই বলে মানুষ ফেরীঘাটে ফেরী কিংবা ট্রাকে করে গন্তব্যে রওয়ানা দেয়। মানুষ জন রাস্তায় বা মাঝপথে ঠিক ই বসে থাকবেনা। তারা যে ভাবেই হোক ঘরে ফিরবে।
মানুষের এই ঘরে ফিরা আজকের ঘটনা নয়। লকডাউন না করায় বা লকডাউন করার পর তা না মানায় মানুষ কর্মে ফিরেছিলো। আবার সেই লাখো মানুষ ঘরে ফিরছে। এ যেনো ঘরে ফিরা কর্মসূচী।
প্রথম আলো ১৭ মে এক প্রতিবেদনে লিখেছে, “করোনার নির্দেশনা মানতে নজরদারীতে গুরত্ব কম।” কথাটি সত্য। নজরদারী বাড়াতে হবে।মানুষকে আরো সচেতন করে তুলতে হবে। করোনার ভয়াবহতা জানাতে হবে। লকডাউন ঘোষণা করে ঘরে বসে থাকলে মানুষ ঠিকই রাস্তায় বের হবে লকডাউন সত্যি কিনা দেখার জন্য। যে দেশে করোনা রোগী পাওয়া গেলে মানুষ ঐ বাড়ীতে রোগী দেখার জন্য উঁকি মারে সে দেশে লক ডাউন নয়, সমাধান একটাই ‘কারফিউ’।
হাঁ এখন বলতে পারেন,কারফিউ দিলে মানুষ খাবে কি?তা হলে আমি বলবো দক্ষিন এশিয়ার একটি দেশ শ্রীলংকা’র কথা। দেশটিতে এ যাবৎকাল করোনা রোগী পাওয়া গেছে ৯২৫ জন। মারা গেছে মাত্র ৯ জন। সে দেশটিতেও ২য় দফায় কারফিউ চলছে।
অন্যদিকে সৌদিআরব, দেশটিতে রাতে কারফিউ জারি ছিলো অনেক দিন, যেহেতু এক শহর থেকে আরেক শহরে রাতের আধারে প্রবেশ করতে না পারে। এখন সেই সৌদি আরব ঈদের দিন থেকে, অর্থাৎ ২৩ মে থেকে দিন রাত লক ডাউনের ঘোষণা দিয়েছে টানা ২৭ মে পর্যন্ত। প্রয়োজনে এটা বাড়তে পারে।
আমরা জানি পৃথিবীতে একটা জিনিষ ই দামী, সে হচেছ “সময়”। হাঁ আমরা সময় কে কিল করে ফেলছি।
প্রথম থেকেই যদি শ্রীলংকার মতো কারফিউ জারি করতাম, হয়তো ৩ অংকের ঘরে আমরাও করোনাকে আটকে রাখতে পারতাম। অথচ, আমরা আজ প্রতিদিনই ৪ অংকের মানুষ করোনা পজেটিভ পাচিছ।একদিনে ১৬০০+ পজেটিভ। ২২ হাজর নয় আমার মনে হচেছ আমরা যে ভাবে করোনা ফেরী করে বেড়াচিছ তাতে ১ লাখ ছড়াতে বেশী সময় লাগবে না। জনগণ সচেতন না হলে সরকারের একার পক্ষে এই মহামারী মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আসুন আমরা সবাই এক হয়ে একসাথে কাজ করি। ঘরে থাকি। নিজে সচেতন হই। অন্যকে সচেতন করি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই সাহসী ও বিচক্ষনতার পরিচয় দিচেছন।
গরীব দুঃখীদের কথা চিন্তাকরে এই মহামারীতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিলিয়ে দিচেছন। এভাবে আমরা যদি রাজ ভান্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকি তাহলে কি হবে। রাজ ভান্ডারের ও একটা সীমা আছে। আমরা সচেতন হতে হবে। লকডাউন মানতে হবে। কিন্তু আমরা যখন মানছিনা তখন কারফিউ এর বিকল্প কিছু আছে বলে মনে হয় না। কারফিউ কালীন সময়ে আমরা সকল রোগীকে বাঁছাই ও করে ফেলতে পারবো। উপসর্গ দেখা দেয়া মাত্রই টেস্ট করে বাছাাই করে ফেলতে সক্ষম হবো আক্রান্তদের।

আমরা সেনাবাহিনী কে মাঠে নামিয়েছি। দেশপ্রেমীক সেনাবাহিনী ও পুলিশ মাঠে থেকে কাজ করছেন।তাদের ও মাঠে থেকে কাজ করতে করতে ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে আক্রান্তের হার বাড়ার কারণে ডাক্তারদের পরিশ্রম ও বেড়ে চলেছে। সেই সাথে ঝুঁকি নিয়ে আক্রান্ত হয়ে কাজ করে চলেছেন ডাক্তার রা। এ মহূ্র্তে ডাক্তাররা মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা পালন করছেন। করোনা যুদ্ধ।
আমরা এ করোনা যুদ্ধের অবসান চাই। চাই মানুষ যেহেতু আর এ ভাইরাস বহন করে বেড়াতে না পারে। এখনই যদি আমরা তা আটকাতে না পারি তাহলে আমাদের বছর জুড়েও ছুটি দিয়ে, ত্রান দিয়ে এ করোনা কে মোকাবেলা করা সম্ভব হবেনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে সবিনয়পূর্বক আবেদন; ঈদকে কেন্দ্র করে যে ছুটি থাকছে সে ছুটিটাতে লকডাউন নয় কারফিউ ঘোষণা করুন। সবাই অন্তত ১০ দিনের খাবার নিয়ে ঘরে বাস করুন।
ভেংগে ভেংগে পদক্ষেপ না নিয়ে একেবারে পদক্ষেপ নিন। কারফিউ’র বিকল্প নেই।
এ বছর ঈদ না করলেও আগামীদিনের ঈদগুলো মানুষ বেঁচে থাকলে করতে পারবেন।
দেশ ভালো না থাকলে, দেশের মানুষ ভালো না থাকলে রাজা কিংবা প্রধানমন্ত্রী ভালো থাকতে পারেননা। উৎকন্ঠা বাড়ছে। আসুন আমরা এ ঈদকে জলান্জলি দিয়ে হলোও ঘরে থাকি। কারফিউ ঘোষণা’র অপক্ষায় গোটা জাতি। করোনা মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।আমরা আবার এক নতুন পৃর্থিবী দেখতে চাই। দেখতে চাাই করোনা মুক্ত পৃথিবী। আমরা পিছিয়ে পড়তে চাইনা। সুতরাং বাঁচতে হলে চাই এই মহূ্র্তে “কারফিউ”।

লেখকঃ সম্পাদক আলোকিত বাংলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here