মসজিদের দানবাক্সে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে

0
31

গ্রামীণ টাইমস: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া গেছে। পাঁচ মাস পর আজ সকালে মসজিদের ৮টি দানবাক্স খোলা হয়।

দিনব্যাপী গণনা শেষে বিকেলে এ টাকার হিসাব পাওয়া যায়। দানবাক্সে রেকর্ড পরিমাণ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও বেশ কিছু স্বর্ণালংকারও মিলেছে।

এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ২২ আগস্ট দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন ১ কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দানবাক্স খুলে ১ কোটি ৫০ লাখ ১৮ হাজার ৪৯৮ টাকা পাওয়া যায়।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে পাগলা মসজিদের অবস্থান। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানবাক্সগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ছাড়াও গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন।

কথিত আছে, এই মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। সে জন্য দূরদূরান্ত থেকে ধর্মমত নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন। এবার করোনার জন্য কিছুদিন মসজিদ বন্ধ থাকলেও দান–খয়রাত অব্যাহত থাকে।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, আজ সকাল ১০টায় মসজিদের ৮টি দানবাক্স খোলা হয়। দানবাক্স থেকে কয়েকটি বস্তায় টাকা ভরা হয়। এরপর মেঝেতে রেখে শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় মসজিদ ও মাদ্রাসার ৬০ জন ছাত্র–শিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, এবার গণনা শেষে যে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া গেছে, তা রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের মুদ্রাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালংকার পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়েছে। এখানে ১০০ কোটির অধিক টাকা দিয়ে বড় আকারের একটি পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে।

এর আগে কখনো তিন মাস, কখনো পাঁচ মাস পরপর সিন্দুক খোলা হতো। দানসিন্দুক খুলে একসঙ্গে এত টাকা এর আগে কখনো পাওয়া যায়নি বলে জানান আব্দুল্লাহ আল মাসউদ।

টাকা গণনার কাজে সার্বক্ষণিক তদারকি করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, মো. উবায়দুর রহমান, মো. জুলহাস হোসেন ও মো. ইব্রাহীম, পাগলা মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

-এমএসআইএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here