ভুল তদন্তে ১৫ বছর সাজা, ক্ষমা চেয়েছে দুদক

0
23

গ্রামীণ টাইমস: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুল তদন্তে নোয়াখালীর নির্দোষ কামরুল ইসলাম ১৫ বছরের সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

এদিকে, হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে ভুলের কথা স্বীকার করেছে ক্ষমা চেয়েছে দুদক। আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিটকারীর আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কামরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসএসসির সনদ জালিয়াতির অভিযোগে ২০০৩ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো একটা মামলা করে। মামলায় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসএসসির সনদ জালিয়াতি করে এইচএসসিতে ভর্তির অভিযোগ আনা হয়। সেই মামলায় আসামির ঠিকানা বদলে দেয়। মূল আসামি যিনি তার ঠিকানা হলো- নোয়াখালীর পশ্চিম রাজারামপুর। সে যে কলেজে ভর্তি হয়েছে সেখানে তার ছবি ছিল। ঠিকানা পশ্চিম রাজারামপুর লেখা ছিল। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা এটাকে পূর্ব রাজারামপুর লিখে এফআইআর (প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন) করেন। এরপর ১০ বছর এ মামলার তদন্ত শেষ করে ২০১৩ সালে দুদক অভিযোগপত্র জমা দেয় পূর্ব রাজারামপুরের কামরুল ইসলামের নাম ঠিকানা দিয়ে।

এরপর এ মামলা শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালে বিচারিক আদালত তিনটি ধারায় পাঁচ বছর করে মোট ১৫ বছর সাজা দেয় ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়। এক পর্যায়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

কিন্তু পূর্ব রাজারামপুরের কামরুল ইসলাম এই মামলা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তার জন্ম ১৯৯০ সালে। আর সনদ জালিয়াতি হয়েছে ১৯৯৮ সালের। এ রায়ের পর পুলিশ তার বাড়িতে যায় গ্রেপ্তারের জন্য।

আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে, কামরুল ইসলাম আমাদের কাছে এসে বিষয়টি খুলে বলেন। তখন আমরা বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করি। রিটে পূর্ব রাজারামপুরের কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং হয়রানি যাতে না করা হয় তার নির্দেশনা চাই। আদালত রিটের শুনানি নিয়ে গত বছর ৫ নভেম্বর রুল জারি করেন। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চান।

তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদকের পক্ষে আইনজীবী আদালতের কাছে তদন্তে ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। এফআইআর থেকে তদন্ত সবই তাদের ভুল হয়েছে বলে আদালতকে জানান। দুদক বলছে, যেহেতু তারা সরল বিশ্বাসে করেছে এজন্য আদালতের কাছে তারা ক্ষমা চান। আদালত এ বিষয়ে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করে দেন।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, আমরা আদালতকে বলেছি, এই কামরুল ইসলাম, সেই কামরুল ইসলাম না। সে তো জেলে ছিল না। তার অনুপস্থিতিতে বিচার হয়েছে। এখন সে হাইকোর্টে এসে বলেছে, সে ওই কামরুল ইসলাম না। আমরাও বলেছি সে ওই কামরুল ইসলাম না। সে জেলে টেলে যায়নি কখনও। আমরা আদালতের কাছে বলেছি, এটা ভুল হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন রেখেছেন।

-এমএসআইএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here