মিরাজ ও মোস্তাফিজের ঝলকে বাংলাদেশের দিন

0
32

গ্রামীণ টাইমস: বাংলাদেশের ৪৩০ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৪ রান না হতেই দুই উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুটি উইকেটই তুলে নেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর খেলার হাল ধরেন ওপেনার ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ও চারে নামা এনক্রুমা বোনার। দুজনের তৃতীয় উইকেটের জুটি থেকে আসে ৫১ রান।

দুজনেই মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম-নাইম হাসানদের স্পিন খেলছেন সাবলীল ভাবে। ৬৪ টেস্ট খেলা অভিজ্ঞ ব্র্যাথওয়েট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরির পথে। তার ব্যাট থেকে আসে ৮১ বলে ৪৯। বোনারের রান বেশি না হলেও তিনি খেলছেন টেস্ট মেজাজে। ১৭ রান করতে তিনি খেলেন ৫৮ বল। ২৯ ওভারের খেলা শেষ হতেই দ্বিতীয় দিনের খেলা সমাপ্তির ঘোষণা দেন আম্পায়ার।

স্কোর: বাংলাদেশ- ৪৩০; ওয়েস্ট ইন্ডিজ- ২৯ ওভারে ৭৫/২ (ব্র্যাথওয়েট ৪৯*, বোনার ১৭*)

মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার মোসলে

একবার বেঁচে যান শেন মোসলে, কিন্তু পরের বলে আর বাঁচতে পারেননি। ইনিংসের ৫.৬ ওভারের সময় মোস্তাফিজুর রহমানের করা বল পায়ে লাগে তার। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। মোসলে রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি, বল সরাসরি যায় মিডল স্টাম্পে। এর আগের বলেও পায়ে লাগে এই ব্যাটসম্যানের। আম্পায়ার আউট না দিলে রিভিউ নেন মুমিনুল হক। কিন্তু বল ব্যাট ছুঁয়ে পায়ে লাগাতে তখন বেঁচে যান। এটি মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার। আউট হওয়ার আগে মোসলের ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ২ রান।

চোট পেয়ে মাঠের বাইরে সাদমানচোট পেয়ে মাঠের বাইরে সাদমান

ডানপায়ের গোড়ালিতে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে সাদমান ইসলাম। দিনের খেলা শেষ হওয়ার ১২ ওভার আগে মাঠে ছাড়েন তিনি। সাকিবের হাওয়ায় ভাসানো বল পূর্ণ শক্তি দিয়ে ড্রাইভ করেছিলেন বোনার। বল এক ড্রপ করে সিলি পয়েন্টে দাঁড়ানো সাদমানের পায়ে আঘাত করে। প্যাড পরে থাকলেও পায়ের অরক্ষিত স্থানে আঘাত করায় চোট পান এ ওপেনার। দ্রুত মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাদমান। পায়ের ব্যথার তীব্রতা বোঝা যাচ্ছিল তার চোখে মুখে। ফিজিও জুলিয়ান কেলাফতে মাঠে প্রবেশ করে চোটাগ্রস্ত স্থান দেখেন। এরপর সাদমানকে নিয়ে মাঠের বাইরে যান ফিজিও। তার পরিবর্তে ফিল্ডিং করছেন সাইফ হাসান।

শুরুতেই মোস্তাফিজের আঘাত

বাংলাদেশের একমাত্র পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ভাঙলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটি। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামা জন ক্যাম্পবেলকে (৩) ফিরিয়ে এই জুটি বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে তার বিরুদ্ধে এলবিডাব্লিউর আবেদন করেন মোস্তাফিজ। আম্পায়ার শরফউদ্দৌলা আউট না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ, তাতে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হয়।

পরের বলে শেন মোসলেকে বিরুদ্ধে আবারও এলবিডাব্লিউর জোরালো দাবি জানান বাঁহাতি পেসার। এবার তাতে সাড়া দিয়ে আউট দেন শরফউদ্দৌলা। কিন্তু রিভিউ নিয়ে উইকেট বাঁচান মোসলে।

মিরাজের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের ৪৩০

সাকিব আল হাসান ও সাদমান ইসলামের ফিফটির পর ৮ নম্বরে নামা মেহেদী হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জিং স্কোর ছুড়ে দিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের চা বিরতির আগে ৪৩০ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।

সেঞ্চুরি করার ২ ওভার ৩ বল খেলে আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে ফিরিয়ে রাকিম কর্নওয়াল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি টানেন। ১৫১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অনে বদলি ফিল্ডার কাভেম হজের ক্যাচ হন মিরাজ। ১৬৮ বলে ১৩ চারে ১০৩ রানে আউট হন তিনি। অন্য প্রান্তে ৩ রানে খেলছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

মিরাজের প্রথম সেঞ্চুরি

দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৪৮তম ওভারে জোমেল ওয়ারিকানের প্রথম বলে বাউন্ডারি মারেন, পরের বলে নেন দুই রান। পৌঁছান ৯৯ রানে। তৃতীয় বলটি ঠেকিয়ে পরের বলে দুটি রান নিয়ে হেলমেট খুলে ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি উদযাপন করেন। তিন অঙ্কের ঘরে মিরাজ পৌঁছান ১৬০ বলে ১৩ চারে। এর আগে টেস্টে তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রান ছিল অপরাজিতক ৬৮, ২০১৮ সালের নভেম্বরে ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

বাংলাদেশের চারশ

মেহেদী হাসান মিরাজ একপ্রান্তে রান তুলছেন, আরেক প্রান্তের নাঈম হাসান দাঁত কামড়ে ক্রিজে পড়ে ছিলেন। তাদের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ চারশ ছাড়ায়। এ নিয়ে ২২তম বার এক ইনিংসে চারশর বেশি রান করলো তারা।

এর আগে দলীয় ৩৯০ রানে নাঈমের বিরুদ্ধে এলবিডাব্লিউর জোরালো আবেদনে সফল হন রাকিম কর্নওয়াল। তবে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত পাল্টান আম্পায়ার। ১৪ রানে জীবন পান নাঈম। অবশ্য ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৪৬ বলে চারটি চারে ২৪ রান করে এনক্রুমাহ বোনারের কাছে বোল্ড হন নাঈম। মিরাজের সঙ্গে নবম উইকেটে তার জুটিটা ছিল ৫৭ রানের।

৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিনের খেলা শুরু করেছিলেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাশ। আর ৬টি রান যোগ করে ভেঙেছে এই জুটি। জোমেল ওয়ারিকান বোল্ড করেন লিটনকে (৩৮)। মিরাজের সঙ্গে ৬৭ রানের জুটি গড়ে বিদা য়নেওয়ার আগে সাকিব ক্যারিয়ারের ২৫তম ফিফটি পান ১১০ বল খেলে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আউট হন ৬৮ রান করে। রাকিম কর্নওয়ালের বলে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটের ক্যাচ হন সাকিব। পরে মিরাজের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তাইজুল। ১৩ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে প্রথম সেশন শেষ করেছেন তারা।

-এমএসআইএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here