ঘরের মাঠে উন্ডিজের কাছে হোইটওয়াশ বাংলাদেশ

0
25

গ্রামীণ টাইমস: সর্বশেষ নয় টেস্টে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটিতে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল টাইগাররা। টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুলের সাফল্যের ঝুলিতে এই একটিই অর্জন। জিম্বাবুয়ে ছাড়াও গত দুইবছরে আরও আটটি টেস্টে হেরেছে বাংলাদেশ। টাইগারের এই হারের বৃত্ত শুরু হয়েছিল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়ে। এরপর নবাগত আফগানদের বিপক্ষেও হারতে হয়েছিল টাইগারদের।

ভারতের মাটিতে প্রথমবার টেস্ট খেলতে গিয়েও গত বছর তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল টাইগার বাহিনী। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম মিশনেই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিল তারা। দুই টেস্টের দুটিতেই হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। এরমধ্যে দ্বিতীয় টেস্টে কলকাতায় প্রথমবার দিবারাত্রির টেস্ট খেলতে নেমে চরমভাবে হতাশ করেছিল টাইগাররা।

বহু নাটকীয়তার পর পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল মুমিনুল বাহিনী। সেখানেও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি বাংলাদেশ। ইনিংস ব্যবধানে মুমিনুলদের হারের লজ্জা দিয়েছিল পাকিস্তান। করোনার কারণে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অবশ্য মাঠে গড়ায়নি। এ সিরিজও ছিল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ।

তানা ছয় হারের পর ঘরের মাঠে অবশেষে জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানে হারায় তারা। যদিও এ ম্যাচ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ ছিল না। জয়ের স্মৃতি নিয়েই করোনা সঙ্কট কাটিয়ে উইন্ডিজের বিপক্ষে সাদা পোষাকে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সফরকারীদের পূর্ণ শক্তির দল না আসায় সহজ জয়ের স্বপ্নই দেখছিল টাইগার শিবির। তবে টাইগারদের সে স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল। আবারও হারের বৃত্তেই ঘুরপাক খেল তারা। দুই টেস্টের দুটিয়ে পেল হারের স্বাদ। ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট অধরাই রয়ে গেল।

চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে হারের স্বাদ পাওয়ার পর মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানর লক্ষ্যে মাঠে নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে প্রথম ইনিংসেই হতাশ করে টাইগাররা। বাংলাদেশের বোলারদের ব্যর্থতায় ৪০৯ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। জবাবে ব্যাত করতে নেমে হতাশ করেন তামিম-মুমিনুলরা। ২৯৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তাইজুলরা। ১১৭ রানেই গুটিয়ে দেয় উইন্ডিজকে। ২৩১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জয়ের সম্ভাবনা জাগালেও শেষ পর্যন্ত হতাশ করে টাইগার শিবির। ২১৩ রানে থামে মুমিনুলদের লড়াই। ফলে ১৭ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। এর আগে সিরিজের প্রথম টেস্ট ৩ উইকেটে হেরেছিল মুমিনুল হকের দল। এ হারের ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো টাইগাররা।

প্রথম ইনিংসে ১১৩ রানের লিডের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৭ রান যোগ করে উইন্ডিজ। বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩১। এই রান তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকদের শুরুটা ছিল স্বপ্নের মতো। তামিমের বিধ্বংসী শুরুতে কোনো উইকেট না হারিয়েই দলীয় অর্ধশতক পূরণ করে টাইগাররা। ফিফটি পূরন করেন তামিম নিজেও।

দ্বিতীয় সারির দল হলেও উইন্ডিজ ক্রিকেটাররা যে হাল ছাড়ার পাত্র না। তাই সৌম্যকে সাজঘরে ফিরিয়ে আক্রমণের শুরু। একে একে উইকেট দান করে আসেন তামিম, শান্ত, মুশফিকরা। চাপে পড়ে বাংলাদেশ, উজ্জ্বল হয় ক্যারিবীয়দের জয়ের সম্ভাবনা।

টার্গেট খুব বেশি না হওয়ায় তবুও আশা টিকে ছিল। হয়তো ব্যাটসম্যানদের মাঝে কেউ একটু দায়িত্ব নিয়ে খেললে হয়েও যেতো। কিন্তু কারো হয়তো টেস্ট জেতার মানসিকতাই ছিল না! ফলে টাইগার ব্যাটারদের একেরপর এক আত্মহত্যায় উল্লাসে মাতে ক্যারিবীয়রা। ফিকে হয়ে আসে সিরিজ সমতায় শেষ করার স্বপ্ন।

শেষদিকে মেহেদি হাসান মিরাজ চেষ্টা করেছেন বটে। তবে তা যথেষ্ট ছিল না। তার ব্যাটে একসময় ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে তা আর হয়নি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়েস্ট ইন্ডিজ (প্রথম ইনিংস) : ৪০৯ (বোনার ৯০, জশুয়া দা সিলভা ৯২, আলঝারি ৮২); আবু জায়েদ ৯৮/৪, তাইজুল ১০৮/৪)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ (দ্বিতীয় ইনিংস) : ১১৭ (বোনার ৩৮; তাইজুল ৩৬/৪, নাঈম ৩৪/৩)।

বাংলাদেশ (প্রথম ইনিংস) : ২৯৬ লিটন দাস ৭১, মুশফিক ৫৪; কর্নওয়াল ৭৪/৫, গ্যাব্রিয়েল ৭০/৩)

বাংলাদেশ (দ্বিতীয় ইনিংস) : ২১৩ (তামিম ৫০, মিরাজ ৩১; কর্নওয়াল ১০৫/৪, ওয়ারিক্যান ৪৭/৩)

ফলাফল : ১৭ রানে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ : ২-০ ব্যবধানে জয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ

-এমএসআইএস 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here