সয়াবিন লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ালো টিসিবি

0
31

গ্রামীণ টাইমস: এবার সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশই (টিসিবি) দাম বাড়াল সয়াবিন তেলের। গতকাল সোমবার সরকারের এ বিপণন সংস্থাটি তাদের বিক্রিত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়েছে। এছাড়া প্রতি কেজি মসুর ডালে দাম বাড়িয়েছে পাঁচ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষের সুবিধার্থে বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে টিসিবি ভোজ্য তেল, ডাল, চিনি ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য বিক্রি করে। সরকারের এ সংস্থাটিতো মুনাফা করার জন্য পণ্য বিক্রি করে না। তাহলে তারা এখন সয়াবিন তেল ও মসুর ডালের দাম বাড়াল কেন যখন বাজারে লাগামহীনভাবে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ছে ।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, এখন টিসিবির উচিত ছিল বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ বাড়ানো যাতে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকে। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে স্থানীয় বাজারে ইচ্ছে মতো দাম বাড়াতে না পারে। কিন্তু তারা বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ না বাড়িয়ে উলটো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

গতকাল টিসিবি তাদের বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৯০ টাকা নির্ধারণ করে। এছাড়া পাঁচ টাকা বাড়িয়ে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ টাকা।

এ প্রসঙ্গে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির গতকাল বলেন, পেঁয়াজ বাদে অন্য সব পণ্য সয়াবিন, মসুর ডাল ও চিনি আমরা স্থানীয় বাজার থেকে কিনেই ভোক্তাদের দিচ্ছি। স্থানীয় বাজারে দাম বেড়েছে বলেই আমাদের দাম বাড়াতে হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে রমজানের শুরুতে এপ্রিলে বাজারে সয়াবিনের সরবরাহ বাড়ানো হবে।

গতকাল রাজধানীতে শান্তিনগর, মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় খোলা ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম ঘুরে দেখা যায়, দাম বাড়ায় ক্রেতাদের কাছে সয়াবিন তেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ট্রাক প্রতি মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ লিটার বরাদ্দ থাকায় ক্রেতারা চাহিদা মতো সয়াবিন তেল পাচ্ছে না।

টিসিবি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ বলেন, বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় টিসিবির তেলের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বরাদ্দ কম থাকায় আমরা ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সয়াবিনের পাশাপাশি মসুর ডাল ও চিনিরও চাহিদা রয়েছে। তবে বাজারে নতুন দেশি পেঁয়াজ ওঠায় এই পণ্যটির চাহিদা কমে গেছে। দিন শেষে অনেক সময় অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে এসব পেঁয়াজ। ফলে আমরা অনেকটা বাধ্য হয়ে অবিক্রিত পেঁয়াজ নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি করছি। কারণ, পেঁয়াজ রেখে দিলে নষ্ট হয়ে যাবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে পড়েছে টিসিবি। তারা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যে ১ লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ কিনেছে তা পর্যায়ক্রমে আগামী মার্চ পর্যন্ত আসবে। এছাড়া এরই মধ্যে আসা অনেক পেঁয়াজ গুদামে রয়েছে। এই পেঁয়াজ বিক্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা সয়াবিন তেল কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

গত প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বাড়ছে ভোজ্য তেলের দাম। টিসিবির দৈনন্দিন খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে দেশের খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১১৮ থেকে ১২০ টাকা, পাম সুপার ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, পাম অয়েল ১০০ থেকে ১০২ টাকায় বিক্রি হয়। সরকারের সংস্থাটির হিসাবেই গত এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ ও খোলা পাম অয়েলে ৩২ দশমিক ৬৭ শতাংশ দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার তুলনায় সয়াবিন ও পাম অয়েলের সরবরাহ কম। এজন্য দাম বেশি। তবে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলতি ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে পাম অয়েলের মৌসুম শুরু হচ্ছে। এ দুটি দেশের পাম অয়েল উত্পাদনের ওপর ভোজ্য তেলের বাজার নির্ভর করছে। যদি উত্পাদন ভালো হয়, তাহলে বাজারে ভোজ্য তেলের দাম কমবে বলে তারা জানান।

-এমএসআইএস 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here